বাঙলার সমাজে শয়তানের চেয়েও নিন্দিত নারী

সিহাব উদ্দীন

ছেলেটি তার বিছানা গুছিয়ে না রাখলে মা খুশি হয়, দেখতে পায় একটি পুরুষের জন্ম হচ্ছে; কিন্তু মেয়েটি বিছানা না গোছালে একটি নারীর মৃত্যু দেখে মা আতংকিত হয়ে পড়ে।

নারীকে শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রেখে বলা যায় না নারী অশিক্ষিত; তাকে বিজ্ঞান থেকে বহিষ্কার ক’রে বলা যায় না নারী বিজ্ঞানের অনুপযুক্ত। তাকে শাসনকার্য থেকে নির্বাসিত ক’রে বলা যায় না নারী শাসনের যোগ্যতাহীন। নারীর কোনো সহজাত অযোগ্যতা নেই,  তার সমস্ত অযোগ্যতাই পরিস্থিতিগত,  যা পুরুষের সৃষ্টি বা সুপরিকল্পিত এক রাজনীতিক ষড়যন্ত্র।

নারী কাকে বলে? সিমোন দ্য বোভোয়ার (১৯৪৯,৩৫) বলেছেন, এর উত্তরে এক ধরনের পুরুষ বলে, “নারী হচ্ছে জরায়ু, ডিম্বকোষ; নারী হচ্ছে স্ত্রীলোক।”

অপরদিকে, পুরানো কুসংস্কারকে বিজ্ঞানের রুপ দিয়েছেন আদিম পিতৃতন্ত্রের এক প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী উত্তরপুরুষ। তাঁর নাম সিগমুন্ড ফ্রয়েড।

তিনি বলেন,  “নারী-আত্মা সম্পর্কে আমার তিরিশ বছরের গবেষণা সত্ত্বেও একটি মহাপ্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারি নি; প্রশ্নটি হচ্ছে নারী কী চায়?”

নারী বই সম্পর্কে প্রয়াত গণবুদ্ধিজীবী আহমদ ছফা মন্তব্য করেছিলেন, ‘ হুমায়ুন আজাদের ‘নারী ‘ বহুল আলোচিত গ্রন্থ। আমি নিজেও এক কপি কিনেছিলাম। কিন্তু কিনে মুশকিলে পড়ে গেলাম। বইটি এতই জীবন্ত যে, মাসে মাসে রক্তস্রাব হয়। অগত্যা আমাকে শেলফ  থেকে সরিয়ে রাখতে হল। হুমায়ুন আজাদ দাবি করেছেন,  এটা নাকি তার মৌলিকগ্রন্থ আমার একটুখানি সংশয় জন্ম নিল। তাহলে সিমোন দ্য বোভোয়ার (একজন ব্রিটিশ মহিলা দার্শনিক)  কি করছিলেন? পরবর্তী গ্রন্থ ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ ‘ বের হওয়ার পর আমার সব সংশয় ঘুচে গেল। হুমায়ুন আজাদ অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সহকারে সিমোন দ্য বোভোয়ারের বই বাংলা ভাষায় নিজে লেখেন। 

সম্ভবত জাফর ইকবাল স্যারের পরে প্লেজিয়ারিজমের তালিকা করলে হুমায়ুন আজাদ দ্বীতিয়তে থাকবেন। থানি ইটের মতো বই নিজের লেখা বলে চালাতে হুমায়ুন আজাদই পারে। পরে অবশ্য প্রকাশক বইটি তুলে নিয়েছিল। আজাদ সাহেবের অধিকাংশ কথায় আক্রমনাত্মক ভাব বিদ্যমান সেটা হোক ‘পাক সার জমিন বাদ ‘ কিংবা ‘নারী’। তবে আজাদ সাহেবের বেশ কিছু বই আমার দারুণ বই রয়েছে  যেমন : ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,  সাক্ষাৎকার, লাল নীল দীপাবলি, কতো নদী সরোবর, আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম,ইত্যাদি। 

নারীরা আসলে দেবী,শাশ্বতী, কল্যাণী গৃহলক্ষ্মী,অর্ধেক কল্পনা। তবে তারা আসলে নিজেকে কী ভাবতে পছন্দ করে ফ্রয়েডের মতো আমারও একই প্রশ্ন, “তারা আসলে কী চায়?”


তথ্যসূত্র: নারী- হুমায়ুন আজাদ, ষাড়নামা, ইত্যাদি