রাবি ছাত্রদলের কমিটিতে নিয়মিত ছাত্র ছয় জন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সেটি চলছে টানা চার বছর ধরে। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিটিতে অধিকাংশ নেতারই নেই নিয়মিত ছাত্রত্ব। অনেকেই রাজনীতি ছেড়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। রয়েছে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও নিষ্ক্রিয়তার নজিরও।
২০২১ সালের ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল রাবি শাখায় ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে আহ্বায়ক করা হয় সুলতান আহমেদ রাহীকে এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান শামসুদ্দিন চৌধুরী সানিন। কমিটিতে ১৫ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৪ জন আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
তথ্য অনুযায়ী, ৩১ সদস্যের মধ্যে নিয়মিত ছাত্রত্ব রয়েছে মাত্র ৬ জনের। দলের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অধিকাংশ নেতা আর ছাত্র নয়, কেউ চাকরি করছে, কেউ প্রবাসে।”
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, কমিটির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহীর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে কমিটি ঘোষণার আগেই। সদস্য সচিব সানিন রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে অন্তত ছয়জন এবং আহ্বায়ক সদস্যদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। কেউ কেউ চাকরিতে, কেউ কেউ প্রবাসে এবং কারও বিরুদ্ধে রয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ।
২০২২ ও ২০২৩ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের কারণে অন্তত পাঁচজন নেতাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব, মেহেদী হাসান, সম্রাট আব্দুল লতিফসহ আরও কয়েকজন।
তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এখনো রাবি শাখায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেনি। এমন অবস্থায় হতাশ অনেক নেতাকর্মী। যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ তাহের রহমান বলেন, “২০২৪ সালের ১০ মে কর্মী সম্মেলন হলেও কমিটি হয়নি। শিক্ষার্থীরা চায় তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব। আমরা চাই রাজশাহীকেন্দ্রিক না হয়ে সারাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকুক।”
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক পদে থাকা সুলতান আহমেদ রাহীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কমিটি ধরে রাখার অভিযোগও উঠেছে। যদিও তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, “ছাত্রদলের এখনো এত বাজে সময় আসেনি যে একজন আহ্বায়কের অর্থে চলবে।”
রাবি শাখার কমিটিতে অধিকাংশের ছাত্রত্ব না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাহী দাবি করেন, কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন ভাষা ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি আছেন। তিনি নিজেও সাংবাদিকতা কোর্সে পড়ছেন বলে জানান।
বহিরাগতদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজশাহীর মানুষ আমাদের ভালোবাসে। আন্দোলনের সময় তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেয়। এমনকি চায়ের দোকানদাররাও আমাদের পাশে থাকে।”
তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কমিটি নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।